click on images to know more about the Images
না না অন্য একদিন এসে খাব, আজ আর খাওয়ার সময় হচ্ছে না। বীণা খুব আফসোস করে কিছুটা টেনে নরম শুরে বলে, " আচ্ছা বছরে এক আধদিন এলেই যদি তবুও এতো ব্যস্ততা নিয়ে যে একটু সময় করে নাখে মুখে একটু খাওয়ার সময় থাকে না। " এক কথার উত্তর সহসা নিরেনের দেওয়া সম্ভব হল না। " দাও খেতে" বলে টিউবওয়েলে হাত ধুতে গেল। "সেই সকালে তোমাকে দেখেই আমি ভাত ও আনুসঙ্গিক সমস্ত রান্না করে নিয়ে আশায় আশায় বসে আছি। এখন প্রায় বিকাল তিনটে বাজে । আমি তোমাকে দেখে সেন্টারে পর্যন্ত যায়নি। " বিমলাকে সেন্টার চালিয়ে নিতে বলেছি", বলে বীণা। "একটু বসো, কাজের ধন আমার, খাওয়ার গুলো বরফ হয়ে গেছে একটু গরম করে নি" বীণা বলে, প্রায় এক নিশ্বাসে। না না তার আর দরকার হবেনা। জানইতো যারা রাজনীতি করে তারা বউয়ের গরম গরম কথা আর ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাত খাওয়ার অভ্যাস করে নেই" নীরেনও বলে প্রায় এক নিশ্বাসে। "খুব সুন্দর রান্না হয়েছে " বলে নীরেন। " ছেলেদের এই অভ্যাসটা গেল না অহেতুক প্রশংসা করা। কি এমন রান্না হয়েছে ? " বলে বীণা। " ছেলেদের মানে, তুমি কি দেশ শুদ্ধ ছেলেদের খাইয়ে বেড়াও নাকি?" বলে নীরেন। যদিও খোঁচা দেওয়া কথা কিন্তু কথায় তেমন উত্তাপ ছিল না। মস্করাই বলা যায়।
গ্রামের ক্লাবের ছেলেরা এবার যাত্রা পালা ধরেছে। দুর্গা পূজায় নামাবে। যাত্রা পালার নাম ৪২ এর বিপ্লব। বীণারও একটি অভিনয় আছে। চরিত্রের নাম শিখা। শিখা হল এক জন জমিদার কন্যা । বীনা কথা গুলি বলার পরেই বলে, আর কদিন মাত্র বাকি। এই অষ্টমীর রাত্রিতেই হবে। "এবারের দূর্গা পূজার কটা দিন না হয় থাকলেই বা," বলে বীণা।
নীরেণ গিয়েছিল সেই ৪২ এর বিপ্লবের অভিনয় দেখতে। অভিনয়ে শিখার দাদা নিজেকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এক জন মনে করেন। কিন্তু এটাও মনে করেন যে জমিদারদের ব্রীটিশদের বিরুদ্ধ আচরণ করা ভালো ফল নয়। দাদা জমিদারি দেখা শুনা করেন কিন্তু তিনি এক স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গুপ্তচর। মানে গোপনে
ছদ্মবেশে স্বাধীনতা গ্রামীদের সাহায্য করেন। মানে একজন খাটি বিপ্লবীই বলা যায়। এটা শিখা কিন্তু যাত্রা পালার শেষ দিকে জেনে আনন্দে আপ্লুত হয় এবং দাদা বিপ্লবী জানতে পেরে গর্বিত হয়। বীণার অভিনয় সত্যিই খুব ভালো লেগেছিল।
গল্পের পরের অংশ পরের পর্বে অনুসরণ করুন।
বিঃদ্রঃ - স্ক্রিনশট কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।