click on images to know more about the Images

চেতনা

Author: বিকাশ চন্দ্ৰ বিশ্বাস

আবার শুরু হল ধর্ম যুদ্ধ। আমাদের শিক্ষিত মানুষের সাথে দেখা হলে তারা বলছেন জয় শ্রীরাম, রাধে রাধে,সুপ্রভাত বা গুডমর্নিং বলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এটা প্রত্যেকের ব্যাক্তিগত ব্যাপার। যেটা নিয়ে আমার আলোচনা সেটা হল এক শ্রেণীর বাবুরা মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের পিন্ডি চটকাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য যোগেন বাবু নাকি বাংলাটাকে ভাগ করেছেন আমার একটি ছোট্ট অনুরোধ তারা তাদের নিজের পড়ার নামটা একটু পরিবর্তন কেন দেখান না, কেমন মুরদ আছে । তানারা হয়তো জানেন না আজ যে সংরক্ষণের কোটায় চাকুরী করছেন সেটা যোগেন বাবুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়ই টিকে আছে।

ঘটনাটি একটু বিষদভাবে ব্যাখ করছি, ভুল হলে মার্জনা করবেন।, ১৯৬৫ সালে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ভারতের কেন্দ্র সরকারের দ্বারা গঠিত "লোকুর কমিটি " "Lokur Committee " র সুপারিশের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ গড়েতুলেছিলেন । নমঃশূদ্র ও রাজবংশীসহ প্রধান প্রধান দলিত জাতিগুলির তফসিলি ( scheduled caste ) সংরক্ষণ নিশ্চত করেছিলেন।

১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় আইন সচিব বি এন লোকুরের নেতৃত্বে ভারত সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতির তালিকা সংশোধনের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিলেন। এই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেন যে পশ্চিম বঙ্গের নমঃশূদ্র, রাজবংশী, শুঁড়ি ও ধোবা সম্প্রদায়ের মানুষ শিক্ষা দীক্ষা ও আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে তুলনা মুলকভাবে এলিট বা উন্নত হয়ে উঠেছে। তাই তাঁদের নাম সংরক্ষণ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিৎ।

যোগেন বাবুর ঐতিহাসিক প্রতিরোধ, তৎকালীন সময়ে দেশভাগের কারনে পূর্ববঙ্গ থেকে লক্ষ লক্ষ নমঃশূদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে কালাতিপাত করছিলেন। এই অবস্হায় তাদের সংরক্ষণ কেড়ে নেওয়ার সুপারিশের বিরুদ্ধে তৎকালীন কেন্দ্রীয় আইন ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রী শ্রী এ কে সেন এর কাছে তীব্র আপত্তি জানিয়ে কড়া চিঠি লেখেন যোগেন বাবু। 

তার এই রাজনৈতিক আইনি লড়াই এবং প্রতিবাদের ফলে লোকুর টমিটির সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়, ফলে পশ্চিমবঙ্গের নমঃশূদ্র, রাজবংশী এবং অন্যান্য প্রান্তিক জাতিগুলির তফসিল জাতির অধিকার ও সংরক্ষণ অক্ষুন্ন থাকে ।

 

এবার আসি বিজ্ঞান এবং

 যুক্তি নিয়ে :

আপনি আপনার ভাগ্য বদলানোর জন্য মন্দিরে যান কিন্তু আপনার জীবন বদলানোর জন্য কেন বই পড়েন না। আজ আমি আপনাকে কোনো কঠিন প্রশ্ন করছি না। আপনি মন্দিরে যান, পুজা করেন, ঘন্টা বাজান, মানথ করেন, আপনি কি পান? আপনি বলবেন মানষিক শান্তি। আপনার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়, আপনার বেকারত্ব ঘুচে যায়। আপনার ঘরে রোগ ব্যাধি আসা বন্ধ হয়ে যায়। আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না। আপনার যে অধিকার সেটা আপনি পান? যদি আপনার অবস্থার উন্নতি করতে হয় তবে শুধু প্রার্থনা নয়, চেষ্টা ও করতে হবে । চেষ্টা না করলে কোনো কিছু পাওয়া যায় না। একটি প্রচলিত মতবাদ আছে, "কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।" যে তার বুদ্ধি অন্যের উপর সপে দেয় তাকে অন্যের উপরেই নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়। তাই আমি আপনাদের বলছি চেষ্টা করুন, পরিরশ্রম করুন, রাম রাম, রাধে রাধে করুন ক্ষতি নেই, তবে আপনাকে গন্তব্যেস্হলে পৌছাতে হলে পড়তে হবে, জানতে হবে, সমাজকে জাগাতে হবে,অন্যথায় নয়। বাচ্চার হাতে বই দিন, ভগবান ওকে রাস্তা দেখাতে পারে কিন্তু রাস্তায় কিভাবে চলতে হবে সেটা আপনাকেই দেখাতে হবে, ভগবান দেখাবেন না। এই কথাগুলো আমার নয় বাবাসাহেব ড:ভীম রাও রামজী আম্বেদকর কথা। আপনি বলেন ওর ভাগ্যে যা আছে তাই হবে । আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি শিক্ষা কিসের জন্যে, পরিশ্রম কিসের জন্যে। দলিল, শোষিত, পিছড়ে বর্গের লোকেরা সব কিছু ভগবানের উপর সপে দেন। এই জন্য তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে না। হ্যাঁ পরিবর্তন আসে যদি তাকে সঠিক ভাবে শিক্ষা দেওয়া যায় এবং সেই শিক্ষাকে যদি সে গ্ৰহণ করে।আমরা যতটুকু শিক্ষা পেয়েছি তার অবদান জ্যোতিবা ফুলে, সাবিত্রী বাই ফুলে, হরিগুরুচাঁদ ঠাকুর, বাবা সাহেব, পেরিয়ার রামস্বামী, যোগেন মন্ডল এবং অন্য সব মহামানবের কষ্টের ফসল।

তবে ভগবানের উপর সব কিছু সপে না দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রশ্ন করতে হবে, জানতে হবে, শিখতে হবে। যদি মন্দিরে যেতে হয় যাও, পুজা করো কিন্তু পড়াশুনা বন্ধ করে ঘন্ট বাজিও না। কারণ ঘন্টার আওয়াজ খুব বেশি দুরে শোনা যায় না, কিন্তু শিক্ষার আওয়াজ জীবন ভরে শুনতে পাওয়া যায়। ওকে শিখায় পরিপ্রম করো, জ্ঞান অর্জন করো, অধিকার ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করো, নিজের পায়ে দাড়াও। বাচ্চারা যদি সঠিকভাবে পড়াশুনা করে, যদি বিজ্ঞান মনোস্ক হয় তবে সে অন্ধবিশ্বাস ত্যাগ করে দ্রুত আলোর দিশায় ধাবিত হয়। শুধু পুজা করে প্রদী জ্বালিও না, জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাতে হবে সেদিকে সজাগ দৃস্টি রাখতে হবে। 

আপনার বাচ্চাকে শুধু মন্দিরের রাস্তা দেখাবেন না স্কুলের রাস্তা ও দেখান কেননা ভবিষ্যত মন্দিরের সিড়িতে বসে তৈরী হয় না। ভবিষ্যত তৈরী হয় পড়ালেখা করে কারণ পড়ালেখা আপনার বাচ্চাকে বোঝাতে পারে কোনটি ঠিক কোনটি ঠিক নয়। মনে রাখবেন বিদ্যাই সেই ধন যেটা দিলে বাড়ে, কমে না। অন্ধবিশ্বাসীরা ভগবানের নামে জীবন উৎসর্গ করে দেয় কিন্তু কামনা, বাসনা, লালসা, কাম, ক্রোধ থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করতে পারে না। তাই তো আমরা দেখতে পাই মন্দিরের পুজারীর নামে কুৎসা কুকৃতি। 

মাতা সাবিত্রীবাই ফুলে বলেছিলন চোখ খোলো, দেখ, পড়ো :

বিদ্যার অভাবে বুদ্ধি গেল

বুদ্ধির অভাবে নীতি গেল

নীতির অভাবে গতি গেল

গতির অভাবে বিত্ত গেল

অর্থের অভাবে শূদ্র নিঃস্ব হলো 

এত সব অনর্থ ঘটালো কেবল একটি অবিদ্যা (অশিক্ষা )। 

জয় ভীম